ধাপে ধাপে উবুন্টু ইন্সটল

অনেকেই উবুন্টুর সিডি হাতে পেয়েও বসে থাকেন। হয়তো চালায় দেখেন কিন্তু ইনস্টল করার মতো সাহস তাদের হয়নি। আপনি যদি তাদের একজন হয়ে থাকেন তাহলে দুশ্চিন্তা মুক্ত হোন। আমরা এই সহজবোধ্য টিউটোটিয়ালে উবুন্টু লিনাক্স ইনস্টলেশনের প্রতিটি ধাপ চিত্রসহকারে দেখাবো।

প্রাথমিকভাবে যারা বহুদিন উইন্ডোজ ব্যবহার করার পর লিনাক্সে আসছেন তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকি উইন্ডোজ ও লিনাক্স দুইটি রাখতে (ডুয়েল বুটিং), এতে দুই সিস্টেমের পার্থক্য এবং উবুন্টু লিনাক্সে অভ্যস্থ হতে সুবিধা হবে। এই টিউটোরিয়ালে উইন্ডোজ ও উবুন্টু লিনাক্স ডুয়েল বুট করার জন্য উবুন্টু লিনাক্স ইনস্টল করা হয়েছে।

পূর্ব প্রস্তুতি

*আপনার কম্পিটারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো অন্য কোথাও কপি করে ব্যাকআপ রাখতে পারেন। এটা ৯৯.৯৯% নিশ্চিত যে কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের কোন প্রকারের কোন ক্ষতি হবে না। তবে আপনি যদি আমার মতো ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে চান সব কাজে এবং আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস যদি না থাকে (অথবা আমাদের এই টিউটোরিয়ালের উপর আস্থা যদি না থাকে) তাহলে ব্যাকআপ করে রাখাই ভালো।

*আপনার হার্ডডিস্কের একটি পার্টিশন খালি করে ফেলুন লিনাক্স ইনস্টলেশনের জন্য। উবুন্টু লিনাক্সের জন্য নূন্যতম ২ গিগাবাইট জায়গার প্রয়োজন পরলেও আমরা ৫-৮ গিগাবাইট খালি পার্টিশন নেয়ার জন্য পরামর্শ দেই, যাতে ডকুমেন্টস রাখার ও অন্যান্য এপ্লিকেশন ইনস্টল করার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। প্রয়োজনে সুবিধার জন্য দুইটি পার্টিশন একটি মূল রুট পার্টিশনের জন্য অপরটি সোয়্যাপ পার্টিশনের জন্য (সোয়্যাপ পার্টিশনের আকার আপনার র‍্যামের সমান অথবা দ্বিগুন রাখা হয় সাধারনত তবে ১গিগার বেশি রাখার কোন প্রয়োজন নেই)। [লিনাক্সে দুটি মূল পার্টিশন প্রয়োজন হবে একটি লিনাক্স এর রুট পার্টিশন এবং আরেকটি সোয়াপ পার্টিশন (সোয়াপ পার্টিশন মূলত উইন্ডোজের Pagefile এর মত কাজ করে এটি মূল RAM হতে চাপ কমিয়ে সোয়াপ পার্টিশনকে ভার্চুয়াল মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করবে। পার্টিশন fat বা ntfs হলে সমস্যা নেই উবুন্টু ইনস্টলের সময় আমরা লিনাক্স পারটিশনে ফরমেট করে নেব।]

*উবুন্টু সিডি থেকে বুট করার জন্য আপনার কম্পিউটারের ফার্স্ট (প্রাইমারী) বুট ডিভাইস অবশ্যই সিডি/ ডিভিডি রম হতে হবে। ফার্স্ট বুট ডিভাইস হার্ডডিস্ক হলে আবার উইন্ডোজই চালু হবে। ফার্স্ট বুট ডিভাইস হার্ডডিস্ক দেয়া থাকলে বায়োস থেকে তা পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তনের পদ্ধতি মাদারবোর্ড প্রস্তুতকারক ও মডেল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ফার্স্ট বুট ডিভাইস নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনে আপনার মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল দেখুন।

আসুন শুরু করি

ধরে নিচ্ছি আপনার কাছে উবুন্টু সিডি বা ডিভিডি আছে। সিডিরমে বা ডিভিডিরমে আপনার উবুন্টু হার্ডি হ্যারনের সিডি (অথবা ডিভিডি) রেখে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন। ফার্স্ট বুট ডিভাইস সিডিরম নির্বাচিত থাকলে রিস্টার্ট করার কিছুক্ষণ পরে নিচের মত উইন্ডো দেখতে পাবেন, যেখানে ইনস্টলেশনের ভাষা নির্বাচন করবেন। বাংলা ভাষা দেয়ার অপশন থাকলেও প্রথমবার ইংরেজী দিতে পারেন কারন এতোদিন আপনি উইন্ডোজের ইংরেজী লেখার সাথে পরিচিত ছিলেন। বাংলা ভাষা সমর্থন পরবর্তিতেও যুক্ত করা সম্ভব।

চিত্র: সিডি মেন্যুর ভাষা নির্বাচন

ভাষা নির্বাচনের পর নিচের মত উইন্ডো দেখা যাবে। সেখান থেকে Install Ubuntu নির্বাচন করুন।

চিত্র: সিডি মেন্যু

প্রথমেই সিডি থেকে ইনস্টলের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করার কাজ হতে থাকবে যা প্রগ্রেস বারের মাধ্যমে দেখানো হয়। সাধারনত ৫ মিনিটের চেয়ে কম সময় লাগলেও কম্পিউটারের ক্ষমতার উপর এই সময় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।)

চিত্র: প্রগ্রেসবার

এরপর ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রথম ধাপ – ভাষা নির্বাচন

প্রথম ধাপে আপনাকে ইনস্টলেশনের ক্ষেত্রে ভাষা নির্বাচন করতে হবে। বাংলা ভাষা নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও আমরা সবাইকে স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজী ব্যবহারের পরামর্শ দেই (আপনি যদি একান্তই লোকালাইজড ভার্সন ব্যবহার করতে চান পরবর্তীতে যুক্ত করতে পারবেন)।

চিত্র: সিস্টেমের ভাষা নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপ – অবস্থান নির্বাচন

এ ধাপে আপনাকে আপনার অবস্থান কোথায় দেখিয়ে দিতে হবে।আমি Dhaka নির্বাচন করলাম।

চিত্র: অবস্থান নির্বাচন

তৃতীয় ধাপ – কীবোর্ড বিন্যাস নির্বাচন

এখানে আপনাকে কীবোর্ড বিন্যাস বা কীবোর্ড লেআউট নির্নয় করে দিতে হবে। কীবোর্ড লেআউট হিসেবেপ USA নির্বাচন করাই ভালো (কাজে সুবিধা হবে) তবে চাইলে Bangladesh-Probhat-ও নির্বাচন করতে পারেন।

চিত্র: কীবোর্ড বিন্যাস নির্বাচন

চতুর্থ ধাপ – হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং

চতুর্থ ধাপে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করবেন যেটি হল হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং উবুন্টু লিনাক্স ইনস্টলেশনের জন্য। এখানে দুটি পদ্ধতি আছে গাইডেট ইনস্টলেশন ও ম্যানুয়াল ইনস্টলেশন। গাইডেট ইনস্টলেশনে পুরা ডিস্ক নিয়ে ইনস্টল হতে পারে বলে ঝুকিপূর্ণ আপনার সকল ডাটা মুছে যেতে পারে অসাবধানতাবসত। এছাড়া আমরা উইন্ডোজের সাথে ডুয়েল বুটিং করছি বলে আপাতত শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে ম্যানুয়াল ইনস্টলেশন নির্বাচন করছি। এরপর উবুন্টু আপনার হার্ডডিস্ক পার্টিশন সমূহ স্ক্যান ও ডিটেক্ট করা শুরু করবে। এতে কিছুটা সময় নেবে ধ্যৈর্য হারাবেন না। স্ক্যান শেষ হলে আপনার পার্টিশন গুলো দেখতে পাবেন।

এখানে নবীশরা একটু সমস্যায় পরতে পারেন, কারন লিনাক্স আপনার পার্টিশন সমূহ “C” বা ” D” ড্রাইভ হিসেবে দেখাবেনা । লিনাক্স দেখাবে sda1,sda5 এভাবে অর্থাৎ C drive টি হবে = sda1 D drive =sda5 [ C drive এর পরের ড্রাইভ গুলো শুরু হবে sda”5’” থেকে]
এরপর বাকি গুলো যথাক্রমে
E drive = sda6
F drive = sda7
G drive = sda8
H drive = sda9
I drive = sda10
J drive = sda11

আপনি যেহেতু আগেই দুটো পার্টিশন তৈরী করে রেখেছেন তাই আপনি পার্টিশনের আকার দেখলেই চিনতে পারবেন কোন পার্টিশনটিতে লিনাক্স ইনস্টল করবেন। আমি উবুন্টুর জন্য পূর্বেই দুটি পার্টিশন খালি করে রেখেছি একটি রেখেছি ৫ জিবি উবুন্টুর মূল বা “/” রুট পার্টিশনের জন্য আরেকটি রেখেছি উবুন্টু সোয়াপ পার্টিশনের জন্য। এখন ৫জিবি পার্টিশন টি নির্বাচন করে ”Edit Partition” বাটনে ক্লিক করুন।
তাহলে যে উইন্ডোটি আসবে তাতে ফাইল সিস্টেম হিসেবে ext3 বা jfs ফাইল সিস্টেম নির্বাচন করুন। যদিও বেশিভাগ ext3 ফাইল সিস্টেম লিনাক্সের জন্য ব্যবহার করা হয় তবে jfs তার থেকে ফার্স্ট এবং রিলায়েবল তাই আমি জে.এফ.এস জার্নালিং ফাইল সিস্টেম নির্বাচন করলাম। তারপর পার্টিশন ফরম্যাট করো টিতে চেকমার্ক দিন এবার মাউন্ট পয়েন্ট “/” স্ল্যাশ দিন এটিকে লান্কের রুট পার্টিশন বলে এবার ঠিকআছে বাটনে ক্লিক করুন।

চিত্র: রুট পার্টিশন তৈরি

এবার ধরে নিচ্ছি আপনি সোয়াপ পার্টিশনের জন্য একটি ছোট পার্টিশন তৈরী করেছিলেন। সেই পার্টিশনটি নির্বাচন করে একই ভাবে ”Edit Partition” বাটনে ক্লিক করুন।
এবারর উইন্ডোটি থেকে swap নির্বাচন করুন “swap” নির্বাচন করুন। (যদি আপনি আগেই সোয়্যাপ পার্টিশন তৈরি না করে থাকেন তাহলে এখানে সোয়্যাপ পার্টিশনের আকার প্রদান করতে হবে।)

চিত্র: সোয়্যাপ পার্টিশন তৈরি

পঞ্চম ধাপ

তাহলে আপনার পার্টিশনের পরিবর্তন গুলো পার্টিশনের তালিকায় দেখতে পারবেন। এখনই কিন্তু পার্টিশন ফরমেট হয়ে যায়নি বা সিস্টেমে কোন পরিবর্তন হয়নি আপনি কোন ভূল করে থাকলে তা সংশোধন করতে পারেন।

চিত্র: নতুন পার্টিশন টেবিল

ষষ্ঠ ধাপ – ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দেওয়া

এই ধাপে আপনি আপনার ইউজার নেম পাসওয়ার্ড ইত্যাদি সেট করবেন। এখানে প্রথম বক্সে আপনার নাম দিন দ্বিতীয় বক্সে আপনার লগইন নাম দিন, তৃতীয় বক্সে আপনার পাসওয়ার্ড দিন এটিই হবে আপনার এডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড। পরের বক্সে থাকবে আপনার কম্পিউটারের নাম অর্থাৎ নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকলে অন্য নেটওয়ার্কের পিসি সমূহ আপনার পিসিকে এই নামে দেখাবে। শেষের অপশনে চেক মার্ক করলে ইউজারনেম পাসওয়ার্ড দেয়া ছাড়াই আপনি উবুন্টু তে লগইন করতে পারবেন।

চিত্র: একাউন্ট তৈরি

শেষ ধাপ – ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া শুরু

এর পরবর্তী ধাপে আপনাকে জানানো হবে আপনি ভাষা, কী-বোর্ড লেয়াউট, ব্যাবহারকারীর নাম, অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে কী কী নির্বাচন করেছেন। এই উইন্ডোর Install বাটনে ক্লিক করলে ইনস্টল শুরু হবে। তাই পার্টিশনে কোন পরিবর্তন করতে চাইলে এখনই সময় পূর্ববর্তী বাটনে ক্লিক করে পরিবর্তন সাধন করতে পারেন বা ইনস্টল না করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রস্থান বাটনে ক্লিক করতে পারেন।

চিত্র: সেটিংস পর্যালোচনা

Install বাটন ক্লিক করলে ইনস্টলেশন শুরু হবে। কম্পিউটার সিস্টেমের কনফিগারেশন অনুযায়ী ১৫-৪৫ মিনিট লাগতে পারে।

চিত্র: ইনস্টলেশন

ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে মেশিন রিবুট করলে আপনি লিনাক্স বুটলোডার হতে উবুন্টু বুট করতে পারেন। পূর্বের উইন্ডোজ থাকলে বুটিং অপশনে উইন্ডোজ ও পাবেন। ব্যাস হয়ে গেল উবুন্টু লিনাক্স ইনস্টলেশন।

কৃতজ্ঞতাঃ ফয়সাল (ডার্কলড)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: