লিনাক্স পুরা ফালতু – ব্যবহার করে দিনকে দিন হতাশ হচ্ছি

উইন্ডোজে খেলার জন্য নিড ফর স্পীড বলে একটা গেম আছে। কঠিন লড়াই করে গাড়ীর দৌড় প্রতিযোগীতায় জিততে হয়। ওটা খেলতে কঠিন মজা পেতাম। প্রতিটা চ্যালেঞ্জ জিততে দারুন মজা। কয়েকদিন পরেই কম্পিউটারের প্রতিযোগীগুলো কোনক্রমেই পেরে উঠতো না। বন্ধু বান্ধবের যারা খেলতো তারা তো কম্পিউটারের সাথেই পারে না। আমার সাথে পেরে ওঠার প্রশ্নই ওঠে না … … তাই ওদের সাথে খেললে মজা নষ্ট হয়ে যায়। আমার ছোট দুই ভাইও কঠিন গেমার ছিল … ওদের সাথে তাই জমতো। এছাড়া কল অব ডিউটি বা সিমসিটি টাইপের স্ট্রাটেজি গেমগুলোও চরম আকর্ষনীয় ছিল। সবসময়ই টানটান উত্তেজনা আর চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ না থাকলে যে কোনো গেমই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যায়।

লিনাক্স ব্যবহার শুরু করে ভেবেছিলাম কঠিন একটা বিষয় আয়ত্তে আনছি … চ্যালেঞ্জ জয় করছি …. কঠিন ভাব নেয়া যাবে। লোকজন ইমপ্রেস হবে। আজ এটা সমস্যা, কাল ওটা সমস্যা …. রাতে চিন্তায় ঘুম হবে না, চোখের নিচে কালি পড়বে। এই করতে হবে, সেই করতে হবে .. … দুশ্চিন্তায় ডায়বেটিস হয়ে যাবে, হার্টের সমস্যা দেখা দিবে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে ….. …. লোকজন জিজ্ঞেস করলে মুখ ঝামটা দিয়ে বলা যাবে … “ধুর মিয়া অফ যান – জানেন নাতো কী রকম দৌড়ানীর উপরে আছি”। আহ …. কী চরম চ্যালেঞ্জ আর উত্তেজনা।

আমার সে আশায় গুড়ে বালি। লিনাক্সে কোন চ্যালেঞ্জই নাই। একেই তো বিনামূল্যে দেয় সেজন্য জুয়া খেলে টাকা হারাবার মত উত্তেজনা নাই, তার উপর চৌর্যবৃত্তির দারুন থ্রীল পুরাটাই মিস ……. অথচ পাইরেটেড উইন্ডোজে কত্ত উত্তেজনা; আজকে জেনুইনিটি টেস্ট কালকে ম্যালওয়্যার, পরশু ভাইরাস …. চ্যালেঞ্জের পর চ্যালেঞ্জ … কখনই ম্যাড়মেড়ে ভাব নাই।

জেনুইনিটি টেস্টের সেই উইজেটটা নিউট্রাল করা দারুন উত্তেজনাকর …. বিল কাকুর মাইক্রোসফটকে টেক্কা দেয়া বলে কথা! ইন্টারনেট ঘেটে পদ্ধতি বের করে তারপর প্রসেস বন্ধ করতে হয়, ফাইল মুছতে হয়, রেজিস্ট্রি এন্ট্রি মুছতে হয় …. এজন্য ব্যাকআপ নিতে হয় কারণ ভুল ভাল হয়ে গেলে মেশিন বসে যাবে —- ওয়াও!! এরকম টান টান উত্তেজনা না থাকলে জীবন চলে! অবশ্য, অরিজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহার করলে এইসব করা লাগবে না – অন্তত তাই হওয়ার কথা। অবশ্য চুপি চুপি জানিয়ে রাখি, অরিজিনাল উইন্ডোজ ব্যবহারকারীগণ হতাশ হবেন না … … বিল কাকুর এই উইজেট আপনাদের জীবনেও উত্তেজনার আনন্দ দিতে পারে … অনেক অরিজিনাল / জেনুইন ব্যবহারকারীকেও এই উইজেট পাইরেটেড বলেছে বলে শোনা যায় — অবশ্য এতে উত্তেজিত হয়ে কারো হার্ট এ্যাটাক হয়েছে বলে শুনিনি।

তারপর ধরুন নতুন নতুন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমগুলো হাইফাই হার্ডওয়্যার ছাড়া চলে না। অনেক ড়্যাম, অনেক বড় হার্ডডিস্ক, উচ্চমার্গীয় প্রসেসর এই সব লাগেই। এ্যাতসব হাইফাই হার্ডওয়্যার কিনলে কত ভাব নেয়া যায়, বলা যায় যে ঐসব বড় বড় হার্ডওয়্যার কম্পানিকে আমরা বাঁচিয়ে রেখেছি — অথচ ব্যাটা ফাউল লিনাক্স, কম শক্তির পিসিতেও নাকি অনায়েসে চলে। শালার … টাকা খরচের উপায়ই নাই।

তারপর ধরেন, ভাইরাস ভাইদের কথা। সবসময় কত উত্তেজনার মধ্যে রাখে – এই মারলো রে তো সেই মারলো করে সবসময় হৈ হুল্লোরের মধ্যে থাকা যায়। একবার দেখা গেল সকলের স্ক্রীনে ছোট ব্যানারে কী জানি হ্যাক ডে লেখা দুইটা আস্তে আস্তে ইতস্তত ঘুরাঘুরি করছে। যত ক্লিক করা হয় তত বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে। ইন্টারনেট ঘেটে ঐটা দুর করার পদ্ধতি দেখে খুঁজে খুঁজে ওগুলো মোছা হল …. …. বলেন তো, একঘেয়ে জীবনের মধ্যে এমন ব্যতিক্রম না থাকলে ভাল লাগে! অথচ আমার কম্পিউটারে এমন কিছুই নাই। ভাইরাস নাকি বানানোরও কোন রাস্তা খোলা রাখে নাই।

আগে লিনাক্সে ভাল কোনো গেম ছিল না। তাই বড় হয়ে গিয়েছি এমন একটা ভাব আসতো। কিন্তু দেখেন কারবার, এখন দূর্দান্ত থ্রী-ডি গেমও চলে এসেছে। বড় বড় ভাব নেয়ার উপায় নাই।

আগে দেখতাম বড় ভাইরা কালো স্ক্রিনে কাজ করে ভাব নিত… ডসের মত কালো স্ক্রীনে কী কী হিজিবিজি লেখা উঠতো সেগুলো দেখে বিজ্ঞের মত মাথা নাড়াতো। ভাবলাম লিনাক্স ব্যবহার করলে তেমন ভাব নেয়ার সুযোগ হবে। কিন্তু সেই আশাও পুরা হওয়ার কোনো উপায় নাই। লিনাক্সে গ্রাফিকালি ক্লিক করেই সব করা যায় – ধ্যা-এ্যা-ত্ ।

অনেক আগে ১০ গ্রাম ঘুরে একজন মেট্রিক পাশ লোক পাওয়া যেত। একনামে সকলেই তাদেরকে চিনতো। কিন্তু এখন সেইরকম অবস্থা নাই। আমার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বলেছিল তাঁদের সমস্ত গ্রাহকদের মধ্যে আমি আর একজন – এই দুইজনই শুধু লিনাক্স ব্যবহার করে। তাই আলাদা ভাবে আমাদের কথা মনে থাকে। কিন্তু ইদানিং যে দ্রুত হারে ব্যবহারকারী বাড়ছে … তাতে সেই রেয়ার স্পিশিজ বলে ভাব নেয়ারও উপায় দুর হয়ে যাচ্ছে — নাহ্ লিনাক্সটা আসলেই যাচ্ছেতাই হয়ে গেল।

“জানিস আমার পিসি না হ্যাক হয়ে গিয়েছিলো … যখন বুঝতে পারলাম তখন তো সাথে সাথে ইন্টারনেট ডিসকানেক্ট করলাম। তারপর সব রিইনস্টল দিয়ে ফায়ারওয়াল দিয়ে কত কি করে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসলাম।” ইত্যাদি ইত্যাদি কত গল্প করার বিষয় তৈরী হয় যেগুলো লিনাক্সে হওয়ার সুযোগই নাই — হতচ্ছাড়া লিনাক্সের কারণে বন্ধু বান্ধবের সাথে আলাপ করার বিষয়বস্তু কমে যাচ্ছে।

সুতরাং হে রক্ত গরম যুবা, চ্যালেঞ্জিং জীবন চাইলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিন, সেটা সম্ভব না হলে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করুন; ভুলেও লিনাক্স চালানোর কথা ভাববেন না।

লিখেছেনঃ মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান

Advertisements
Comments
12 Responses to “লিনাক্স পুরা ফালতু – ব্যবহার করে দিনকে দিন হতাশ হচ্ছি”
  1. Aero বলেছেন:

    উবুন্টুকে নিয়ে একক কোন বাংলা ব্লগ বোধহয় এই প্রথম। উদ্যোগটা ভাল। কিন্তু এটা জানেন কি? বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধীরগতির ইন্টারনেটে ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ খুলতে কতক্ষণ সময় লাগে? এটা জানলে বোধহয় ব্লগারকেই বেছে নিতেন।

    আপনাদের প্রচেস্টাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। পাশাপাশি জানাচ্ছি শুভকামনা।

    • Tareq বলেছেন:

      ধন্যাবাদ সাপোর্টের জন্যে। আপনিও ইচ্ছা করলে এখানে কন্ট্রিবিউট মানে লিখতে পারেন। এই জন্যে আপনার একটা ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্ট থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট একাউন্টের ইমেইল অ্যাড্রেস আমার কাছে পাঠিয়ে দিন।

      প্রত্যন্ত অঞ্চল বলতে কি বোঝাচ্ছেন? এখন বেশির ভাগ মানুষই গ্রামীণের ইন্টারনেট ব্যবহার করে। গ্রামীণ করুক আর সিটিসেল ই করুক, লোড তো তাড়াতাড়িই হওয়ার কথা। আমিও তো গ্রামীণই ব্যাবহার করি, অনেক ফাস্ট লোড হয়।

    • Nahid বলেছেন:

      প্রত্যন্ত অঞ্চল লাগে না, আমি সিলেট টাওনে থাকি। জিপির নেট ইউস করি। এতেই যা অবস্থা! WordPress এর সাইট গুলা খুব সুন্দর, কিন্তু ওইরকম স্লো। তাই ঢুকতেও সাহস লাগে। আর আমি উবুন্টু লুসিড ইউস করি।

  2. aero বলেছেন:

    ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগারের স্পিডে অনেক অনেক পার্থক্য আছে। বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেকতে পারেন। এছাড়াও একটা পোস্ট লিখতে ওয়ার্ডপ্রেসে যত সময় লাগে, ব্লগারে একই সময়ে দুইটা পোস্ট লেখা যায়।

    আপনি যেখানে আছেন, সেখানে জিপির স্পীড হয়তো তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সবখানে তা নয়।

    • Tareq বলেছেন:

      আপনি কি এডমিন প্যানেলের কথা বলছেন? যদি তাই হয়, তাহলে আসলেই ওয়ার্ডপ্রেস স্লো। কিন্তু তাও ব্লগারের চেয়ে আমি ওয়ার্ডপ্রেসকেই প্রাধান্য দেব। আপনার জন্যে একটা টিপস। লেখার জন্যে ওয়ার্ডপ্রেসের এডমিন প্যানেল ব্যবহার করার দরকার নাই। ফায়ারফক্সের একটা অ্যাড-অন আছে, স্ক্রাইবফায়ার(scribefire) এইটা ব্যবহার করলে আর কিছুই লাগবে না। সেকেন্ডের মধ্যেই আপনি ব্লগে পোস্ট করতে পারবেন, সে ব্লগারই হোক আর ওয়ার্ডপ্রেস হোক।

  3. m@q বলেছেন:

    হা হা হা ব্যাপক মজা পাইলাম! আসলেই লিনাক্স এখন পানসে লাগে। প্রথম প্রথম অতি উত্তজনা ছিল, পরে দেখি উবুন্টু বা লিনাক্স মিন্ট ব্যবহার আসলে উইন্ডোজের চেয়েও সোজা!

  4. dayeen বলেছেন:

    একদম ঠিক!! উবুন্টু ব্যবহার আসলেই উইন্ডোজের চাইতে সহজ…।। আর এতদিন ধরে বিল কাক্কুর উইন্ডোজে ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করার পর কি আর উবুন্টু ভালো লাগে??? হা হা হা হা!!!!!!

  5. sadekur rahman বলেছেন:

    এম এস ডস থেকে শুরু করে এম এস উইন্ডোজ সেভেন পর্যন্ত ব্যবহার করছি… সবই মাইক্রোসফট এর বোকাস ও এস… আমি বিল গেটস এর সকল সফটওয়্যার কে ঘৃণা করি… বর্তমানে জরিন ৫ ও ফুডুন্তু ব্যাবহার করতেছি… প্রায় বিশ রকমের Linux distribution এর ও এস লাইভ ব্যবহার করছি… সবই অসাধারন… চারদিক লিনাক্স এর জয় জয়কার… ধন্যবাদ বাংলায় লিনাক্স নিয়ে লেখার জন্য…

  6. futureplanbd বলেছেন:

    লিনাক্স ব্যাবহার করেন ঠিক আছে। তবে উইন্ডোসকে বস্‌ মানতেই হবে। নতুন অনেক প্রসেসর আছে যাতে লিনাক্স ভালোভাবে চলে না। বলতে গেলে লিনাক্স এখনো কোন পরিপূর্ণ ওএস না। নানান ধরনের সমস্যা লেগেই থাকে। প্রয়োজনীয় অনেক software লিনাক্সে চলে না। PS, DW, AI তথা adobe, MS Office 2013, Sony Vages ইত্যাদি যা ওয়াইন দিয়েও ভালোভাবে হয় না। লিনাক্স সবার জন্য উন্মুক্ত এবং Microsoft ও Apple এর মতো মোরলদের জন্য ঢাল হিসাবে ব্যাবহিত হয়। যা সবার জন্যই ভালো। আসলে সকল দেশের সরকারদের উচিত হবে লিনাক্সের জন্য অর্থ অনুদান দেওয়া এবং সরকারী সকল কম্পিউটারকে লিনাক্স ভিত্তিক করা। যেমন ভারতের তামিল নাডুর সকল কম্পিউটার এখন উবুন্ট। তারপরও অনেক মূর্খ সরকারগুলো Windows XP এর support বাড়ানোর জন্য Microsoft অর্থ অনুদান দেয়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: