উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!

যখন প্রথম কম্পিউটার জিনিসটা দেখি তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি। তখন ছিল ডসের যুগ। টেলিভিশনের মত যন্ত্রের সামনে কালো স্ক্রিনে কি কি লেখা আসে। ক্লাস নাইনে বাসা থেকে নিজের জন্য যখন পিসি পেলাম, তখন ছিল উইন্ডোজ ৯৫ এর যুগের একদম শেষের দিক। আমার পিসিতে ছিল প্রিইন্সটলড উইন্ডোজ ৯৮ (বাংলাদেশে তো পিসি কিনলেই উইন্ডোজ থাকে)। নিজে পিসি পাবার আগে অন্যদের পিসিতে হালকা পাতলা গেম খেলেছিলাম, তাই উইন্ডোজের ইন্টারফেসের সাথে খুব একটা অপরিচিত ছিলামনা। তাই আশেপাশে সাহায্য করার মত তেমন কেউ না থাকলেও নিজে নিজে আয়ত্ত্ব করতে বেশি দিন লাগেনাই। আয়ত্ত্ব বলতে মুভি দেখা, গান শোনা, গেম খেলা, টুকাটাক টাইপ করা আর এমএস পেইন্টে ছবি আঁকার চেষ্টা করা। আর এই পাঁচটা কাজের প্রথম চারটা কাজ আমি বয়সানুযায়ী বেশ দক্ষতার সাথেই করতে পারতাম। কম্পিউটারে যে এর চেয়ে বেশি কিছু করা যায় সেটাই জানতামনা! সেটা জেনেছি আরো পরে যখন সি এর সাথে পরিচয় হয়। নটরডেম কম্পিউটার ক্লাবের ছোট্ট রুমটাতে সপ্তাহে একবার যেতাম প্রোগ্রামিং শেখার জন্য। তখনই আস্তে আস্তে বুঝতে শিখি কম্পিউটারের আসল ক্ষমতা। এর আগ পর্যন্ত কম্পিউটার ছিল আমার কাছে টাইপরাইটার, ভিসিডি প্লেয়ার আর সেগা-নিন্টেন্ডোর গেমস্টেশনের মিলিত একটা যন্ত্র। এরও কয়েক বছর পর জানতে পারি উইন্ডোজই কেবল একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম না, আরো আছে, আর লিনাক্স হচ্ছে সেরকমই একটা!

এই কথাগুলো কেন বললাম? এটা বোঝানোর জন্য যে উইন্ডোজ সে সময় কতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস নিয়ে এসেছিল যে আমার মত শিশুও (জাতিসংঘের আইনানুসারে ১৬ বছরের নিচে সবাই শিশু) উইন্ডোজের ইন্টারফেস সহজে ধরতে পেরছিল! একসময় কম্পিউটার ছিল কেবলমাত্র টেকি লোকদের জন্য। উইন্ডোজই বোধকরি এটাকে একেবারে সাধারন মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসে। সাধারন একজন মানুষ কি কাজে পিসি ব্যবহার করছে সেটা ব্যাপার না, সে যে পিসি ব্যবহার করছে এটাই ব্যাপার। উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তি মনে হয় এটাই ছিল যে, যে কেউ কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই পিসির সামনে বসে যেতে পারবে; সেই সাথে উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও এই “পিসির সামনে বসে যাওয়া ইউজার”! এই পিসাবযাই’রা (পিসির সামনে বসে যাওয়া ইউজার) যে শুধু উইন্ডোজেরই বড় দুর্বলতা তাই না, এরা তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বেও সিংহভাগ ঝামেলার জন্য দায়ী।

বেশিরভাগ উইন্ডোজ ব্যবহারকারিরই আসলে কম্পিউটার বা উইন্ডোজ সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই। ভড়কে গেলেন? ভুল বুঝবেননা, আসলে পিসিতে লেটেস্ট এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা বা কোন সফটওয়্যার রান করানো বা কিবোর্ড টিপে লেখালেখি করাটাকে আমি কম্পিউটার সম্পর্কে ধারনার মধ্যে ফেলতে চাচ্ছিনা। কি করছি না করছি সেটা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকাটাকে আমি এখানে বুঝাচ্ছি। আমি এমনও ইউজার দেখেছি যে কিনা কম্পিউটারকে “অধিক” সুরক্ষিত করার জন্য একইসাথে একাধিক এন্টিভাইরাস ইন্সটল করে রাখে! এতে করে তার পিসিতে কি কি সাইড এফেক্ট হতে পারে সেটা নিয়ে তার কোন ধারনাই নাই! প্রায়ই বেশিরভাগের পিসিতে যে জিনিসটা দেখি সেটা হল ডেস্কটপের উপর বা স্টার্ট মেনুতে শত শত ফাইল বা লিঙ্ক থাকে, এতে করে যে তাদের র্যামে কি পরিমান চাপ পড়ছে সেটা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। উইন্ডোজে যে ঘন ঘন ডিফ্র্যাগমেন্ট যে করতে হয় এটাই অনেকে জানেনা। এটা হচ্ছে কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার ফল। সমস্যা হচ্ছে এই পিসাবযাই’রা জানেন পর্যন্ত না যে তাদের জ্ঞানের ঘাটতি আছে। কারন তাদের জানতে দেয়া হচ্ছেনা।

পিসাবযাইদের আরেকটা উদাহরন দেই। আমি যখন প্রথম প্রথম ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হই তখন আমার একাউন্টে এক ধরনের মেইল প্রায়ই আসতো, যাতে লেখা থাকতো এই মেলটাকে ট্র্যাক করা হচ্ছে, তাই যত বেশি একাউন্টে এই মেইল পাঠাবেন আপনার একাউন্টে তত বেশি টাকা জমা হবে। ততদিনে প্রোগ্রামিং জিনিসটা হালকা পাতলা বুঝি। তাই সাবধানে মেইলটার আগগোড়া দেখলাম, যাদের হাত ঘুরে এসেছে তাদের একগাদা ইমেইল এড্রেস ছাড়া এমন কোন সফটওয়্যার এটাচড অবস্থায় পেলামনা যেটা এই মেইল ট্র্যাক করতে পারে। তাই এইরকম ইমেইল এলেই ডিলিট করে দিতাম। কিন্তু আসা বন্ধ হতনা। কেন? কারন এই ইমেইলটা যাদের কাছে গেছে তাদের সিংহাভাগই ব্যাপারটাকে বিশ্বাস করে। তারা জানে পর্যন্ত না যে এটা চেইন মেইল!

এইসব পিসাবযাইদের বেশিরভাগই জানেনা যে একই কাজ করার জন্য কম্পিউটার বিশ্বে একাধিক প্রোগ্রাম আছে। এমএস অফিস ছাড়াও যে লেখালেখি আর হিসাব-কিতাব করার জন্য আরো সফটওয়্যার আছে সেটা অনেকেই জানেনা। আর জানলেও তারা সুইচ করতে চাননা, কারন তারা মাইক্রোসফটের ইন্টারফেসের উপর এত বেশি নির্ভরশীল যে তারা অন্য কিছুতে গিয়ে থাকতে পারেননা। এক উইন্ডোজ ব্যবহারকারিকে একবার উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারের বদলে উইনএ্যাম্প ইন্সটল করে দিয়েছিলাম, কয়দিন পর সে আবার মিডিয়া প্লেয়ারে ফিরে আসে, কারন উইনএ্যাম্প তার পছন্দ হয়নাই। পছন্দ না হবার কারন মিডিয়া প্লেয়ারের মত দেখতে না! বাংলাদেশে যে ভার্সিটিতে শিক্ষকতা করতাম সেখানে আমাদের ডিপার্টমেন্টে একটা আলাদা রুম ছিল কেবলমাত্র শিক্ষকদের জন্য, যেখানে নেটব্রাউজ থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যন্ত করা হত। সেখানকার ইনচার্জ ছিলেন যেই শিক্ষক তিনি একবার কয়েকটা পিসিতে ওপেন অফিস ইন্সটল করেন। যার ফলাফল ছিল সম্মিলিত প্রতিবাদের ঝড়। প্রথম কারন এটা এমএস অফিস না! দ্বিতীয় কারন এমএস অফিসের যেখানে যা থাকে ওপেন অফিসের সেখানে সেটা নাই! তাই তাদের ব্যবহারে খুব কষ্ট হচ্ছে। অর্থ্যাৎ এমএস অফিসের ইন্টারফেস না হলে কিছুতেই ব্যবহার সম্ভব না। সেইদিন এক বাংলা ফোরামে (!) উইন্ডোজ বনাম লিনাক্স নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল। তো এক উইন্ডোজ ব্যবহারকারি বলছিলেন যে তার কাছে লিনাক্সের কোন প্রোগ্রামই জাতের মনে হয়না, কারন সেগুলোর ইন্টারফেস তার পছন্দ না! চিন্তা করে দেখুন, উনি একটা প্রোগ্রামকে তার ইন্টারফেস দিয়ে বিচার করছেন, প্রোগ্রামটার ফাংশনালিটি তার কাছে কিছুই না!

বাংলাদেশে সাইবার ক্যাফেতে আমার যাতায়াত একেবারেই ছিলনা, তার প্রধান কারন হচ্ছে একেকটা পিসি ভাইরাস বোঝাই হয়ে এমন স্লো হয়ে থাকতো আর এত বেশি এডওয়্যার পপডআপ করত যে ব্রাউজ করার মজাটাই নষ্ট হয়ে যেত! কেন ঐ পিসিগুলার এই অবস্থা? কারন ঐ পিসাবযাই’রা। এরা ইন্টারনেটে কোন খানে “ক্লিক হিয়ার” শব্দটা পেলেই ক্লিক করে বসে। “মিলিয়ন পাউন্ড জিততে এইখানে ক্লিক করুন”, “টিভি গাড়ি পেতে ক্লিক করুন” কিংবা “পিসিতে ভাইরাস আছে, ভাইরাস তাড়াতে অমুক প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে এইখানে ক্লিক করুন” – এই সবগুলোতেই তারা কোন রকম ভাবনা চিন্তা ছাড়া ক্লিক করে বসে। এর মাধ্যমে যে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার পিসিতে আসতে পারে এতে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। তাদের ধারনা পিসিতে এন্টিভাইরাস থাকা মানেই “হোয়াইট হাউজের” সিকিউরিটি সেখানে চলে এসেছে। কিন্তু এন্টিভাইরাস মানেই যে কম্পিউটার পুরোপুরি নিরাপদ তা কিন্তু না। সেদিন পিসাবযাইদের একজন বলছিল যে ভাইরাস তার পিসিতে কোন সমস্যাই না, তার অমুক ব্র্যান্ডের এন্টিভাইরাস আছে। সেই এন্টিভাইরাস নাকি প্রথম চোটেই একগাদা ভাইরাস ডিলিট করেছে। সে এইটা বোঝেনা যে এন্টিভাইরাস যেসব ভাইরাস চিহ্নিত করতে পেরেছে সেগুলোকে ডিলিট করেছে যেগুলো চিহ্নিত করতে পারে নাই সেগুলো কোথায়? নিশ্চয়ই পিসির ভেতর তার কাজ চলে যাচ্ছে। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে আনেকে আবার অপরিচিত ইমেইল থেকে পাওয়া এটাচমেন্ট নামিয়ে চালাতে যায়, কারন তারা জানেনা ম্যালওয়্যার কি জিনিস। ফলাফল হিসেবে তাদের কাছে প্রায়ই শোনা যায় আমার পিসি খুব স্লো বা আমার নেট স্লো। স্লো হবারই কথা কারন সেই সময় তার পিসি তার অজান্তে পৃথিবীর হাজার হাজার পিসিতে স্প্যামিং করতে ব্যস্ত। আর এই সব প্রোগ্রাম যদি একবার অসাবধানতায় এডমিন প্রিভিলেজে ইন্সটল হয়ে যায় তাহলে আর কথাই নাই, এন্টিভাইরাসের সাধ্য নাই সেই পিসিকে জম্বি মেশিন হওয়া থেকে ঠেকায়।

সমস্যাটা এইখানেই। লোকজন কম্পিউটার ব্যবহার করছে ঠিকই কিন্তু না বুঝে না জেনে। আর এইসব অবুঝ ব্যবহারকারিরাই উইন্ডোজের মূল সম্বল। উইন্ডোজ তাদেরকে একের পর এক এত সহজ ইন্টারফেসের পিসি দিচ্ছে যে তাদের মধ্যে বুঝদার হবার ইচ্ছেটাই কখনো জাগেনা। অথবা উইন্ডোজ তাদের ইচ্ছা করেই অবুঝ করে রাখছে। এইবার নিশ্চয়ই আমার উপর ক্ষেপে উঠেছেন! আমি তো আগেই বলেছি আমার নিজেরও শুরু উইন্ডোজ দিয়ে। কিন্তু এরপর আমাকে অনেক কিছু জানতে হয়েছে যেটা একজন সাধারন ইউজারের ইচ্ছেই হবেনা। এই অবুঝ ইউজার তৈরিতে আমাদের আইটিবিদদেরও একটা বেশ প্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে বলে আমার বিশ্বাস। কারন সম্ভবত তাদের বেশিরভাগই উইন্ডোজ দিয়ে তাদের অাইটি জীবন শুরু করেছেন এবং পরে আর কোন ওএস হয় চেখে দেখেননি অথবা চেখে দেখলেও ইন্টারফেস ব্যবহারে সফল হননি কিংবা সফটওয়্যার ব্যবসার খাতিরে উইন্ডোজেই বাধা পড়ে গেছেন। এই ব্যাপারটা ঢাকা দেবার জন্য তাদের কথা বার্তা হয় উইন্ডোজ কেন্দ্রিক। এবং ভাবখানা হয় লিনাক্স বা অন্য সব ওএস অতি উচ্চমার্গীয় ব্যাপার-স্যাপার। এতে করে সাধারন ইউজাররা চিন্তা করেন যে অমুক আইটি বিশেষজ্ঞ যদি সারক্ষন উইন্ডোজ উইন্ডোজ করেন তাহলে নিশ্চয়ই অন্যগুলোতে ঘাপলা আছে! অবশ্য অন্য যে আরো ওএস আছে সেটা কয়জন সাধারন ব্যবহারকারি জানেন সেটাও একটা ব্যপার। আমি নিজেও লিনাক্স বা অন্যান্য ওএসের নাম শুনেছি অনেক পরে। কারন আমরা পিসি কিনলেই তাতে একটা পাইরেটেড উইন্ডোজ ভরে দেয়া হয়। ফলে অন্য যে আরো ওএস থাকতে পারে এটা মাথাতেই আসেনা। ফলে অবুঝরা অবুঝ হয়েই থাকছে।

তাহলে এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি? সেই গতানুগতিক “উইন্ডোজ ছেড়ে লিনাক্স ধরুন” সমাধান? হয়তোবা? কিন্তু তাতেই বা কি লাভ হবে? যেই অবুঝ ইউজার উইন্ডোজে এডমিন মোডে ভাইরাসকে এক্সেস দেয় সেই একই ইউজার লিনাক্সেও হাসতে হাসতে রুট মোডে ভাইরাসকে এক্সেস দিয়ে দেবে। কার্যকরি সমাধান হচ্ছে অবুঝদেরকে বুঝদার করা অথবা অবুঝ ইউজার কমিয়ে বুঝদার ইউজার বাড়ানো। ধরুন আপনার গাড়ি আছে সংগে গাড়ির সাথে ড্রাইভারও আছে। এখন আপনার ইচ্ছা আপনি কি গাড়ির ব্যাপার স্যাপার শিখবেন নাকি “গাড়ি চালানো কঠিন কাজ” বিবেচনা করে ড্রাইভারকেই গাড়ির সর্বময় কর্তা করে দেবেন। যদি আপনি গাড়ি সম্পর্কে অবুঝ হন তবে ড্রাইভার যা বলবে আপনাকে সেটাই করতে হবে, ড্রাইভার বলল এয়ার ফিল্টার নষ্ঠ, যেহতু আপনি জানেননা গাড়ির এয়ার ফিল্টার কোথায় থাকে বা কিভাবে পাল্টাতে হয় তাই ড্রাইভার সত্যি মিথ্যা যাই বলে সেটাই মেনে নিতে আপনি বাধ্য। কিন্তু যদি এয়ার ফিল্টার নিয়ে আপনার সামান্য একটু ধারনা থাকে যে এটা কোথায় থাকে বা এটা কিভাবে কাজ করে তবে কিন্তু ড্রাইভার আপনাকে ইচ্ছামত কলা দেখাতে পারবেনা। আর জানার এই কাজটাই উইন্ডোজ করতে দিচ্ছেনা। কারন এই ইউজারা যদি বুঝদার হয়ে যায় তবে তারা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে উইন্ডোজের তুলনা শুরু করবে এবং খুব সহজেই আবিষ্কার করে ফেলবে যে উইন্ডোজ আসলে সেইরকম শক্তিশালী কোন ওএস না। ফলাফল হিসেবে উইন্ডোজবিমুখতা। আর এই জিনিসটাকেই উইন্ডোজ সম্ভবত বেশি ভয় পায় – ব্যবসা হারানো।

তবে আশার কথা নতুন প্রজন্ম আমাদের মত না, তারা জন্মের পর থেকেই বাসায় পিসি দেখে অভ্যস্ত। ছোটবেলা থেকেই তারা পিসি নেড়েচেড়ে বড় হচ্ছে। ফলে তারা একসময় বুঝদার ইউজার হিসেবেই বড় হবে আর অবুঝ ইউজাররা ক্রমেই কমতে থাকবে। আগে হোক পরে হোক এটা ঘটবেই। উইন্ডোজ তার অবুঝ ইউজারদের বলতে পারে যে লিনাক্স অতি অখাদ্য কঠিন জিনিস এবং এই ইউজাররা এই ব্যাপারে দ্বিমত পোষন করবেনা। কিন্তু কি হবে যখন বুঝদার ইউজারদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে এবং তারা কেবল মাত্র ইন্টারফেস দেখে ওএস ব্যবহার করবেনা বরং এর কার্যক্ষমতা আর উপযোগীতাকে প্রাধান্য দেবে? যখন তারা ওপেন সোর্সের মর্মার্থ ধরতে পারবে? যেকোন সফটওয়্যারকে গড়ে নেবে নিজের পছন্দমত? কম্পিউটারগুলো তখন এমন ইউজারদের অধীনে থাকবে যারা তাকে ভালোভাবে চিনে জানে। এইসব বুঝদার ইউজাররা খামাখা সফটওয়্যার ইনস্টল করবেনা, কম্পিউটারের ঝুকি যাবে অনেকটুকু কমে। তারা কম্পিউটার থেকে বের করে নেবে তাদের যা দরকার তার সবটুকুই। কেমন হবে সেই সময়? কোন ভাইরাস নাই, কোন ম্যালওয়্যার নাই। তাহলে কি উইন্ডোজও নাই হয়ে যাবে? কারন সহজ সমীকরন – অবুঝ ইউজার নেই তো উইন্ডোজও নেই!

দেখা যাক। সময়ই বলে দিবে।

Advertisements
Comments
8 Responses to “উইন্ডোজের সবচেয়ে বড় শক্তিই যখন তার সবচেয়ে বড় দূর্বলতা!”
  1. tareqmahbub বলেছেন:

    অসাধারণ ভাই।
    কিন্তু শেষ প্যারাটির সাথে আমি একমত নই।
    এটা ঠিক উইন্ডোজ ব্যবহার অনেক সহজ। কিন্তু তার পরেও কম্পিউটার জিনিসটাকে অনেকেই এডিয়ে চলে।
    তাদের সামনে অন্য ওএস আনার পরিকল্পনা আরো কঠিন।
    আমারা শুধু উইন্ডোজের দোষই দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু এর অবদান কথা স্বীকার করছি না এটা খুবই কষ্টের বিষয় ভাই।
    আমি যদি বলি আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি এবং আধুনিকতা তরান্বিত করায় উইন্ডোজের অবদান সবচেয়ে বেশি তাহলে কথাটা মোটেও ভুল হবে না।
    এবং এটা বললেও ভুল হবে না যে, উইন্ডোজের জায়গায় অন্যকোন ওএস থাকলে বাংলাদেশের আরো বেশি মানুষ কম্পিউটারকে এড়িয়ে চলত।
    “একটা সফটওয়ার দিয়ে কি করা যায়” তার চেয়ে মনে হয় আরো গুরুত্বপূর্ণ হল তা “একটা সফটওয়ার কত সহজে ব্যবহার করা যায়”।
    কারন ব্যবহার না জানলে অনেক মূল্যবান সফটওয়ারেরও দাম নেই।
    আপনার অবিশ্বাস হলে দয়াকরি Blender সফটওয়ারটি ব্যবহারের চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন একটি সফটওয়ার ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়া কত জরুরী।
    আপনি বলেছেন মাইক্রোসফট ইচ্ছা করেই ব্যবহারকারীদের অবুঝ করে রাখছে।
    আমার মোটেও তা মনে হয় না কারন মাইক্রোসফট এর বেশি কিইবা করতে পারতো??
    ধন্যবাদ ভাই অসাধারণ একটি লিখা উপস্থাপনের জন্যে

    • m@q বলেছেন:

      “আমি যদি বলি আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি এবং আধুনিকতা তরান্বিত করায় উইন্ডোজের অবদান সবচেয়ে বেশি তাহলে কথাটা মোটেও ভুল হবে না।”

      আধুনিক সভ্যতার ভিত্তিতে উইন্ডোজের অবদান “সবচেয়ে” বেশি – এই কথাটা মানতে পারলাম না। ব্যবসায়িক মারপ্যাচে বিল গেটসের সমকক্ষ কেই ছিলনা, তাই সে বিভিন্ন ফাকফোকর দিয়ে বড় আইবিএম, ইন্টেলের মত কোম্পানিগুলো কে ধরে তার সাথে ব্যবসা করতে অনেকটা বাধ্য করে বলা যায়। তাছাড়া এপলের সাথে পাল্লা দেবার মত কোন ওএস ঐ কোম্পানিগুলোর হাতে ছিলনা ফলে তারাও বাধ্য হয়। যে কারনে উিন্ডোজের আজকে এত ইউজার এটা হবার কথা ছিল এপলের, কারন পিসির আইডিয়াটা প্রথম তারাই বাজারে আনে, কিন্তু কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য তারা মার্কেটে উইন্ডোজের কাছে ধরাশায়ী হয়।

      “এবং এটা বললেও ভুল হবে না যে, উইন্ডোজের জায়গায় অন্যকোন ওএস থাকলে বাংলাদেশের আরো বেশি মানুষ কম্পিউটারকে এড়িয়ে চলত।”
      আপনি নিশ্চয়ই গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস বা গুইএর কথা বলছেন, যে কারনে সবাই উইন্ডোজকে বাহবা দেয়। অনেকে ভাবে উইন্ডোজই প্রথম এটার প্রচলন করে। অথচ গুই প্রথম আসে কিন্তু জেরক্সের মেশিনে। ১৯৭৪ সালে তারা প্রথম WYSIWYG এডিটর বের করে। আর ম্যাকিনটশ গুই ব্যবহার করে ১৯৮৪ সালে। যেগুলো উইন্ডোজ ৯৫ এর অনেক আগে বের হয়। তাই উইন্ডোজই গুইয়ের প্রথম প্রবক্তা না।

  2. Ripon Majumder বলেছেন:

    ভাই, আপনার এ ধরনের লেখা নিয়ে কোন ই-বুক আছে কি? থাকলে লিংক দিন। না থাকলে যেদিন প্রকাশ করবেন সেদিন আমি দুনিয়াতে না থাকলেও আমার মেইলে একটা লিংক দিবেন। ততোদিনে আমার মেয়ে হৃদি পড়তে শিখবে।

  3. arifcse28 বলেছেন:

    ভাইয়া দারুন লিখেছেন…লিখতে থাকুন…১ দিন সবার চোখ খুলবে।

  4. futureplanbd বলেছেন:

    কম্পিউটার এখন শুধু মাত্র কাজের জন্য বা গণণার কাজে ব্যবহিত হয় না। কম্পিউটার এখন বিনোদনের প্রধাণ যন্ত্র হিসাবে ব্যাবহার হয়। আপনার গ্রাফিকাল ইন্টারফেস যতো সুন্দর হবে আপনার কাজ করতে ততো সুবিধা হবে এবং কম ক্লান্তি অনুভূত হবে। মনে করুন একজন লোক সার কোম্পানিতে কাজ করে, তার পক্ষে কি সম্ভাব কঠিন ইন্টারফেসের কম্পিউটারে কাজ করা। সে কোড শিখে কি করবে? সারাদিন কাজ করে এসে কম্পিউটারের সামনে বসে যদি সে শান্তি না পায়। তবে তার কম্পিটার কিনে লাভ কি? কম্পিউটার সবার জন্য শুধু মাত্র কোন কোড জানা পন্ডিতদের জন্য নয়।

  5. আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন লিনাক্সের নতুন ইউজার। ফট করেই বুঝতে পারলাম যে লিনাক্স থেকে উইন্ডোজের সব ফাইলে এক্সেস করা যায়। কিন্তু উইন্ডোজ থেকে লিনাক্সের পার্টিসনও আলাদা সফটওয়্যার ছাড়া দেখা যায় না। সাথে সাথে উইন্ডোজের আবেদন আমার কাছে >৫০% পড়ে গেল। লিনাক্স চালাতে গেলে কম্পিউটার শিখে শিখে লিনাক্স চালাতে হয় যা ভালো লাগছে।

Trackbacks
Check out what others are saying...


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: